মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

প্রাকৃতিক সম্পদ

 কৃষি মৎস,পশু সম্পদ বিভাগ ও বনাঞ্চলঃ-

(ক) কৃষি বিভাগঃ-সনাতন প্রযিুক্তির সাথে সাথে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষিতে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।পাশাপাশি পুরাতন সনাতন প্রযুক্তিও আধুনিকায়ন হচ্চে। শস্য,পশু সম্পদ ও মৎস চাষে কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যববহার করে উপকৃত হচ্ছেন। সঠিক সময়ে জমি তৈরী,সেচ প্রদান,সুষম সারের প্রয়োগ,মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ প্রযুক্তি সমূহ দ্রম্নত জনপ্রিয় হচ্ছে।

 

মাটির বৈশিষ্ট্য,গুনাবলী ও বিশেষ ব্যবহারঃ- ওসমানীনগর উপজেলা কৃষি পরিবেশ অঞ্চল ২০ এর অমর্ত্মগত। এখানে মাটির বুনট হলো নিচু জমিতে এটেল এবং উচু জমিতে এটেল দোঁআশ। মাটিতে জৈব পদার্থেও পরিমান মাঝারী। মাটিতে অল্মত্বের মাত্রা ৫.৫ এর কাছাকাছি।মাটিতে পটাশের পরিমান কম থেকে মধ্যম।

·        কৃষি উপকরণ সরবরাহঃ- কৃষির বিভিনন্ন উপকরণ যেমন শষ্য সেক্টও সার,বীজ,কীটনাশক ইত্যাদি বীজ উৎপাদনের জন্য কৃষক পর্যায়ে একাধিক খামার রয়েছে।সরকারী পর্যায়ে খুব বেশী চাহিদা আছে এমন শষ্য যেমন-গম ও বোরো ধানের বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষনের জন্য কৃষক পর্যায়ে বস্নক বীজ খামার স্থাপনা করা হচ্ছে।মসলা ও সবীজ বীজ উৎপাদন কৃষকের খামারেই সম্ভব হচ্ছে এবং তা যথেষ্ট মান সম্মত।আলু  বীজের চাহিদা পূরনে কৃষকগণ বীজ আলু উৎপাদন খামাওে দিকেও যথেষ্ট আগ্রহ দেখাচ্ছেন।এ উপজেলাতে বিএডিসি বীজ ডিলারের সংখ্যা ৫জন।বেসরকারী পর্যায়ে কীজের দোকান ২৩টি।কৃষির বিভিন্ন সেক্টর যেমনুফসল উৎপাদন,গরু,মহিষ ও ছাগল পালন এবং মৎস্য চাষের মাধ্যমে উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে শ্রমিকের কর্মসংস্থনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।কৃষির বিভিন্ন সেক্টরে দিনদিন আধুনিক প্রযুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে দক্ষ মানব সম্পদ ও তৈরী হচ্ছে।  

    জৈব সারের সম্প্রসারণঃ-মাটির বৃদ্ধির লক্ষে কৃষকদেরকে জৈব সার উৎপাদন ও ব্যবহারে উদ্ভুদ্ধ করার জন্য গত বছর ৬০ জন কৃষক/কৃষানীকে জৈবসার উৎপাদন কৌশলের উপর প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে এবং তাদের প্রত্যেকের বাড়ীতে খামার জাত সার উৎপাদন প্রর্দশনী স্থাপন করা হয়েছে। বাড়ীর প্রাত্যহিক জৈব বর্জ্য ফেলে না দিয়া বিনা খরচে জৈব সার তৈরী করে জমিতে ব্যবহারের প্রতি এলাকার কৃষকদের মধ্যে বেশ সাড়া জেগেছে।এতে এক দিকে যেমন মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে অন্যদিকে উৎপাদন খরচ কমবে এবং ফলন ও বাড়বে।

(খ) মৎস্য বিভাগঃ-ওসমানীনগর উপজেলাটি নদী,হাওড়,খাল-বিল বেষ্টিত হওয়ায় এখানে প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যায়।মৎস্য বিভাগীয় কর্মকান্ডের বিসত্মারিত বিবরন নিমেণ দেয়া হলো।

২.উপজেলা পর্যায়ে মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ কর্মসূচী(২য় পর্যায়)ঃ- উক্ত কর্মসূচীর উদ্দেশ্য হলো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লাগসই প্রযুক্তি মৎস্য চাষীদের মাঝে হস্তান্তর করে দক্ষ চাষী তৈরী করে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা।এই কর্মসূচীর মাধ্যমে ২০০১-০২ হতে আরম্ভ করে ২০০৪-০৫ অর্থ বছর পর্যমত্ম ১৩৮ জন  ফলাফল প্রদর্শক (আর ডি)/সহযোগী মৎস্য চাষী (এক এফ)কে পুকুরে মাছচাষ সম্প্রসারণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে ২৪.৬১ হেক্টর জলাশয় আধানিবিড় পদ্ধতিতে চাছ চাষের আওতায় এসেছে এবং প্রায় ৬০মেট্রিক টন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদিত হয়েছে,যার মূল্য প্রায় ২৫০০০০০/=টাকা।ধান ক্ষেতে মাছ চাষ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ২০০১-০২ হতে ২০০৪-০৫অর্থ বছর পর্যমত্ম মোট ৬০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং ১৫.৯২ হেক্টর ধানক্ষেতের জলাশয় আধুনিক পদ্ধতির আওতায় এসেছে।ফলে প্রায় ৫ মেট্রিক টন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদিত হয়েছে।পূর্বে জলাশয়ে সমাজভিত্তিক মাছ চাষ হতো না বললেই চলে,হলেও সেখানে আধুনিক পদ্ধতির  কোন ছোঁয়া ছিল।কিন্তু ২০০২-০৩ হতে ২০০৪-০৫ অর্থ বছর পর্যমত্ম মোট ৪০ জন চাষীকে ৪টি গ্রম্নপে সমাজভিত্তিক  মাছ উৎপাদিত হয়েছে।তাদের মাছ চাষের ফলে প্রায় ১৬ মেট্রিক টন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদিত হয়েছে। এছাড়া ২০০১-০২ হতে ২০০৩-০৪ পর্যমত্ম মোট ৮জনকে গ্রামীণ মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ সংগঠক উন্নয়ন কার্যক্রমের উপর প্রশক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

৩.মুক্ত জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তি কর্মসূচীঃ- উক্ত কর্মসূচির আওতায় ২০০২-০৩ অর্থ বছরে ৪৫,০০০/- টাকার ৫২০ কেজি,২০০২-০৩ অর্থ বছরে ৭৫,০০০/- টাকার ৭৪৮ কেজি এবং ২০০৪-০৫ অর্থ বছরে ৭৫,০০০/-টাকার ৩১৫ কেজি পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।যার কার্যক্রমের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

 (ঘ)বনজ সম্পদঃ-ওসমানীনগর উপজেলায় সংরক্ষিত কোন বনাঞ্জল নেই।তথাপিও বনজ সম্পদের দিক থেকে মোটামোটি সমৃদ্ধ।এখানে বনাঞ্জলে সাধারণতঃ আম,জাম,কাঁঠাল,জলপাই,নারিকেল,সুপারী,মেহগনি,জারম্নলপানিয়ালা,কদম কলা,সিরিশ,সোনালু,নিম,বাঁশ,বেল,জাম্বুরা,আকাশী,পেয়ারা,সেগুন,কামরাঙ্গা,কুল,ইত্যাদি গাছ বেশি পরিলক্ষিত হয়। এ ছাড়াও ওসমানীনগর এর শীতল পাটির উপকরন মুর্ত্তাও এখানতার বনাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

৮। শিল্প ও বাণিজ্যঃ-

(ক) শিল্প ও বাণিজ্য ঐতিহ্যঃ-একসময় ওসমানীনগর উপজেলা ছিল ব্যবসা বাণিজ্যের প্রানকেন্দ্র।এখানে অনেত দূর দূরামত্ম হতে ব্যবসায়ী এসে পণ্য ক্রয় বিক্রয় করত।আশপাশ অঞ্চলের মানুষের প্রাত্যহিক চাহিদার সবটুকুই পূরন হয়েছে এই ওসমানীনগর বাজার থেকে।যানা যায় ওসমানীনগর বাজারে ধান এবং শীতল পাটির ব্যবসা ছিল অন্যতম প্রধান ব্যবসা। অতীতের সেই ঐতিহ্য এখন আর নেই বললেই চলে।

(খ) শিল্প ও বাণিজ্য খাতের সম্ভাবনাঃ-প্রবাসী অধ্যুষিত হওয়ায় এ অঞ্চলে ব্যাপক শিল্প বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে।প্রবাসীরা যদি তাদের অগরিদ অর্থ বিনিয়োগ করেন তবে  এখানে অনেক বৃহৎ শিল্প কারখানা গড়ে উঠতো এবং এতে করে অনেক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতো।

৯। পর্যটনঃ- অত্র উপজেলায়  উলেস্নখযোগ্য কোন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উটেনি। তবে এখানকার হাওড় ও বিলগুলোকে পর্যটনের স্থান হিসেবে রূপদান করা যেতে পারে।             

 

দেশের উন্নয়নের জন্য দক্ষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। পৃথিবীর যে দেশে যত বেশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী আছে সেই দেশ অর্থনৈতিক ভাবে তত বেশি উন্নত।

মানব সম্পদ যদি ব্যবহারযোগ্য না হয় তবে তার কোন মূল্য নেই। কোন রাষ্ট্রের প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক সম্পদ বা খনিজ সম্পদ থাকলেই, সেই রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত হয়না, যদি না ঐ রাষ্ট্র উপযুক্ত পরিকল্পনায় ঐ সম্পদকে ব্যবহার করতে না পারে। তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের পর শিক্ষার্থীকে বা ব্যক্তিকে পেশা বা চাকরী নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। সে নিজেই অর্জিত শিক্ষার সাথে মিল রেখে স্বাধীনভাবে পেশা খুঁজে নিতে পারে। সাধারণত ঝরে পড়া শিক্ষার্থী অথবা কোন কারণে শিক্ষাবঞ্চিত ব্যক্তির জন্য কারিগরি শিক্ষা নানাভাবে সফলতা এনে দিতে পারে।

এ ধরনের শিক্ষার প্রধান শর্ত হলো ধৈর্য্য, পরিশ্রম ও অনুশীলন। দক্ষতাই উন্নয়ন-এ কথাটি কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এ শিক্ষার প্রধান সাফল্য ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ। এর উদ্দেশ্য শিক্ষার্থী বা ব্যক্তিকে পরবর্তী জীবনে নির্দিষ্ট কোন কারিগরি বিষয়ে দক্ষ করে তোলা, নিজ-নিজ উদ্যোগে স্থানীয় ছোট-ছোট শিল্পের প্রসার ঘটানো, স্বাধীনভাবে পছন্দ অনুযায়ী বৃত্তি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদকে প্রকৃষ্টভাবে কাজে লাগিয়ে কর্মীর হাতে পরিণত করা। আমাদের দেশের বিপুল সম্ভাবনাময় এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার।


Share with :

Facebook Twitter